বশেমুরবিপ্রবি ৯ মাসেও পায়নি নতুন উপাচার্য

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের প্রায় ৯ মাস চলছে। কিন্তু গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য পেলেও এখনো উপাচার্য পায়নি বশেমুরবিপ্রবি।

সাবেক উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিন পদত্যাগ করার পর ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রুটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্যের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০১৯ এর অক্টোবর থেকে বিভিন্ন দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় নয়টি আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। এসকল আন্দোলনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি কমানো, ইটিই বিভাগকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সাথে একীভূতকরণ, যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষকের শাস্তি প্রদান, ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন প্রদান, শেখ হাসিনা আইসিটি ইনিস্টিউটে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।

কিন্তু রুটিন দায়িত্ব পালন করায় উপাচার্যের পক্ষে এসকল বিষয় সমাধান করা সম্ভব হয়নি। আর এর ফলে ক্রমশই প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ‘আমরা ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ইটিই বিভাগকে ইইই বিভাগের সাথে একীভূত করার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছি। কিন্তু রুটিন উপাচার্যের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের বিষয়টি সমাধান হয়নি এবং প্রায় আটমাস পার হলেও আমরা ক্লাসে ফিরতে পারিনি’।

হাসান মোল্লা বলেন, গত কয়েকমাসে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উপাচার্য পেয়েছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বেশি সমস্যার মধ্যে থাকার পরেও এখানে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে আমরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় পুরোপুরি অবহেলিত।

শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই নয়, পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষকরাও। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হওয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। কিন্তু রুটিন উপাচার্যের নিয়োগ বোর্ড গঠন ও রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং আয়োজনের ক্ষমতা না থাকায় এখন পর্যন্ত ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে শিক্ষক সংকট নিয়েই চলতে হচ্ছে বিভাগগুলোকে। এমনকি তিনটি বিভাগ চলছে নিজস্ব কোনো শিক্ষক ছাড়াই।

শিক্ষকদের সমস্যার বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. হাসিবুর রহমান বলেন, ‘রুটিন উপাচার্যের বোর্ড গঠন করার ক্ষমতা না থাকায় আমাদের প্রায় শতাধিক শিক্ষকের প্রমোশন আটকে রয়েছে এবং নভেম্বরে এই সংখ্যা প্রায় দুইশততে পৌছাবে’।

এছাড়া একই কারণে সমাধান হয়নি বশেমুরবিপ্রবির দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতাও। প্রায় ৯ মাস যাবৎ বেতনও বন্ধ রয়েছে এসকল কর্মচারীদের। এ বিষয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী মাধব দাঁস বলেন, নতুন উপাচার্য না আসায় আমাদের নিয়োগের বিষয়ে কোনো সমাধান হচ্ছে না। যার ফলে প্রায় নয়মাস হলো আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ, এখন আমরা টাকার অভাবে এক প্রকার না খেয়ে দিন পার করছি।

শুধুমাত্র দাবিপূরণ কিংবা নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যাই নয় উপাচার্য না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থী কল্যাণ তহবিল নিয়েও। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই তহবিলের অর্থ ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও করোনা এবং আম্পানের মত দুর্যোগে তহবিল থেকে সহায়তা পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, এই তহবিলের অর্থ ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখে গেছেন সাবেক উপাচার্য এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে প্রয়োজন হবে রিজেন্ট বোর্ডের অনুমতি। কিন্তু রুটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্যের পক্ষে রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং আয়োজন করা সম্ভব নয়।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, রুটিন দায়িত্বের সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন নিয়োগসহ অনেক বিষয় নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সমস্যাগুলো উল্লেখ করে মন্ত্রনালয়ে একাধিকবার চিঠিও প্রদান করেছি। যাতে রুটিন উপাচার্যকে সকল ক্ষমতা প্রদান করা হয় অথবা নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারীতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন বশেমুরবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দি