অনিশ্চয়তায় জাহাঙ্গীরনগরের ভর্তি পরীক্ষা

দেশের একমাত্র আবাসিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। করোনা মহামারিতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয়টিরও সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়াতো দূরের কথা ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন নীতিমালাই প্রণয়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তথ্য মতে, এবার তিন গুচ্ছে ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকিগুলোতে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সমেয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেলে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করে কর্তৃপক্ষ। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় এসব তারিখ ঠিক করা হয়।

এরপর ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আর বুয়েট, গুচ্ছ ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হলেও ফের বাড়ানো হয়েছে। প্রকৌশল তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি আবেদন চলছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি।

১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিষদের ভার্চুয়াল সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেছিলেন, আগামী ৬ জুন থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। পরীক্ষা কীভাবে হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে তিনবারের মতো আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা কিভাবে হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি প্রশাসন।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রিক অনিশ্চয়তাই দিশেহারা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। সাভারে কোচিং সেন্টারে অধ্যয়নরত দিনাজপুরের সেকেন্ড টাইমার পরীক্ষার্থী কামাল হোসেন বলেন, আমরা বুঝতেছিনা কোন সিলেবাসে কোন ফরম্যাটে জাবির পরীক্ষা হবে। এবস্থায় আমি গড়পড়তা পড়াশোনা করছি। জানিনা কি অপেক্ষা করছে।

ভর্তি পরীক্ষা ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু হাসান বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মিটিং আছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে কবে, কিভাবে জাহাঙ্গীরনগরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যমতে, আগামী ২১ মে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চলমান করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে পরীক্ষা পেছাতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা পেছাবে কি পেছাবে না সে বিষয়ে আগাম কিছু বলাটা ঠিক হবে না। আমরা সবকিছুই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে করে থাকি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটি দেখে একটি বিজ্ঞানসম্মত সমাধান করা যাবে।

অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেলের এমবিবিএসের ভর্তি পরীক্ষা ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে আর ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৩০ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আগামী ১১ জুন এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ১০ জুন। এর আগে ৩১ মে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো গুচ্ছ ভিত্তিতে অনুষ্ঠেয় তিনটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েট) পরীক্ষা হবে ১২ জুন। গুচ্ছ ভিত্তিতে ৭ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে ৩১ জুলাই। আর প্রথমবারের মতো ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে তিন দিনে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৯ জুন, মানবিক ২৬ জুন এবং বাণিজ্যের ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হবে ৬ থেকে ১৮ জুন এবং ২০ জুন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ জুন ‘সি’ ইউনিট, ১৫ জুন ‘এ’ ইউনিট ও ১৬ জুন ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ২২ ও ২৩ জুন, ‘ডি’ ইউনিটে ২৪ ও ২৫ জুন, ‘এ’ ইউনিটে ২৮ ও ২৯ জুন, ‘সি’ ইউনিটে ৩০ জুন এবং ‘বি-১’ ও ‘ডি-১’ উপ-ইউনিটে ১ জুলাই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এর বাইরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ৪ ও ৫ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ জুন, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ জুন ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ভর্তি পরীক্ষা গত ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। তবে এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ মনে করছে, শিক্ষার্থীসহ এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এবারের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণ যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবেই যথাসময়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, এখনই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন নেই। পরীক্ষার এখনো দু’মাসের মত বাকি আছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো আমাদের আলোচনা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।