অনলাইন শিক্ষায় এগিয়ে শহরাঞ্চল, থমকে আছে গ্রামাঞ্চলের পাঠদান

করোনাভাইরাস মহামারি কারণে শহরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রামে অনলাইন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। ফলে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে টেলিভিশনে। তার সুফল থেকেও তারা বঞ্চিত।

যদিও টিভি ও অনলাইনের মাধ্যমে ৯০ থেকে ৯২ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে পাঠদান পৌঁছানো সম্ভব বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে। তবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাদের মতে, দেশের অর্ধেক শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পেতে পারে। এছাড়া অনলাইন ক্লাসে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ থাকলেও সরকারি স্কুলের তেমন আগ্রহ নেই।

জানা গেছে, সংসদ টিভির মাধ্যমে পাঠদান চললেও ডিশ সংযোগ ছাড়া পাঠদান দেখা যাচ্ছে না। আবার ইন্টারনেটের অভাব, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিংবা ট্যাব না থাকার কারণে তারা অনলাইন ক্লাসেও অংশ নিতে পারছে না। ফলে উভয় দিক দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। রাজধানী ছাড়াও অধিকাংশ বিভাগ ও বড় জেলাগুলোয় অনলাইনে শিক্ষাদান চালু করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অনলাইনে ক্লাসের খরচও বেশি বলে অনেকে জানিয়েছেন।

আজিজুল পারভেজ নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ইন্টারনেটের স্পিড খুবই দুর্বল, যা দিয়ে অনলাইনে পাঠদান সম্ভব নয়। ফেসবুকে লাইভ ক্লাস চালালেও ইন্টারনেটের দুর্বল স্পিডের কারণে দেখা যায় না। ২০ মিনিটের ক্লাস দেখতে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় প্রয়োজন হয়, কিছুই বোঝা যায় না। এজন্য সবাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলেও জানান তিনি।

তবে শিক্ষা বিভাগ বলছে, শিক্ষক বাতায়ন নামের একটি পেজে পাঠদান রয়েছে। সেখানে অন্তত চার লাখ ২৫ হাজার শিক্ষক আছেন। কনটেন্ট আছে আড়াই লাখেরও বেশি। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি হিসাবে দেশে প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৬৪ হাজার। আর সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান ৩০ হাজার। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি।

আমিরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, সংসদ টিভির মাধ্যমে পাঠদান দেখা যায় না। এই চ্যানেল দেখতে হলে ডিশ সংযোগ থাকতে হয়, গ্রামে এ ধরনের সুবিধা নেই। অনলাইনে পাঠদানের জন্য জুমের নাম অনেকে শোনেনি, এর ব্যবহারও জানে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানের টিউশন ফি দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু না করলেও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস চালু করেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতে, ইন্টারনেটের খরচ কমালে অনলাইনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মধ্যে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেলিভিশনে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এছাড়া রেডিওতে পাঠদানের জন্য কন্টেন্ট তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া একটি নম্বর দেওয়া হবে, শিক্ষার্থীরা ফোন দিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। প্রথম দিকে স্কুল-কলেজগুলো অনলাইন ক্লাসে আগ্রহী ছিল না। তবে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় স্কুল খোলার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তখন থেকেই অনলাইনে ক্লাস চালুর উদ্যোগ নেয় তারা। সরকারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের আহবান জানানো হয়।