অনলাইনে পরীক্ষা হলেও এক অনুষদে ফল প্রকাশে গড়িমসি

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেশনজটের শঙ্কা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে ফলাফল প্রকাশিত না করায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

এমনকি অনুষদ দুটির অধীনে বিভিন্ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায়, করোনা পরবর্তী কঠিন সময়ে চাকরির বাজারে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন অনুষদের বেশিরভাগ বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হলেও ব্যবহারিক না থাকার পরেও কেন ফলাফল প্রকাশে গড়িমসি হচ্ছে এই নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পূজা কর্মকার বলেন, অনলাইনে এই প্রথমবারের মতো পরীক্ষা দিয়েছি। এ কারণে রেজাল্ট কেমন হবে সেটা নিয়ে আলাদা একটা অনুভূতি কাজ করছে। কিন্তু অন্য অনুষদের প্রায় বিভাগের ফলাফল হয়ে গেলেও আমাদের হয়নি। এটার জন্য আমরা হতাশ। সবসময় ফলাফল নিয়ে চিন্তা করি কতটুকু ভালো-খারাপ করেছি। এখনো ফল প্রকাশ না হওয়াতে এই চিন্তার পরিধি যেন বেড়েই যাচ্ছে।

এদিকে বিজ্ঞান অনুষদের ব্যবহারিক, ভাইবাসহ নানান ঝামেলা থাকলেও তাদের বেশিরভাগ বিভাগের ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হলেও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ব্যবহারিক, ভাইবার তুলনামূলক কম ঝামেলা থাকা সত্ত্বেও কেন ফলাফল প্রকাশে গড়িমসি হচ্ছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মনসুর মুসার কাছে।

তিনি জানান, আমাদের অনুষদ কলা ও বিজ্ঞানের সংমিশ্রণ। দুটো আলাদা বিষয় একসাথে কম্বিনেশন করে ফলাফল হাতে আসতে একটু ব্যতয় ঘটেছে। তবে আমি বেশিরভাগ ফলাফলই স্বাক্ষর করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে জমা দিয়েছি। সপ্তাহে তিনদিন অফিস থাকায় উপাচার্যও ঠিকমত আসতে পারেন না। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কর্মকর্তারা হয়তো ওনার স্বাক্ষরের অভাবে একটু দেরি করতেছে। তবে আশা করি ২০ তারিখের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ হয়ে যাবে।

ফলাফল শিট জমা দেওয়ার পরও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে কেন আটকে আছে, কেনই বা উপাচার্য স্বাক্ষর করতে পারছে না এই বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দেলওয়ার হোসেন বলেন, আমি সপ্তাহে দুইদিন আসি। আসলেই স্বাক্ষর করে দিই, অনেক ফলাফল শিটই স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু কলাও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের রেজাল্ট আমার কাছে না আসলে আমি কি করে স্বাক্ষর দিব। উনারাই রেডি করে আনতে পারছেন না তাই স্বাক্ষর করা হয়নি। তবে আমাদের বেশিরভাগ প্রফেসরই বয়স্ক হওয়াতে তাদের কাজের গতি যেমন খুব একটা নেই তেমনি তাদের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাও তেমন নেই। এজন্য হয়তো ফলাফল প্রস্তুত করতে সময় লাগছে।

এদিকে অনুষদের ডিন ও উপাচার্য কেন্দ্রিক ঝামেলা না হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকের কোন ঝামেলা আছে কি-না, কেনই বা রেজাল্ট প্রকাশ হতে দেরি হচ্ছে এসব বিষয় জানতে কথা বলা হয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী বাবুর সঙ্গে।

তিনি বলেন, ফলাফল প্রকাশের আগে অনেকগুলো কাজ থাকে। সেইকাজগুলো নিখুঁতভাবে করতে সময় লাগে। অনেক বিভাগের ছাত্র সংখ্যা কম, তাদের তাড়াতাড়ি হতে পারে। অনেক বিভাগের ছাত্র সংখ্যা বেশি, তাদের সময় লাগবে। তাছাড়া বিভাগের শিক্ষকেরা এখন সপ্তাহে একদিন আসেন। রেজাল্ট সমন্বয় করতে সময় লাগে। সুতরাং দেরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

তবে প্রশাসনের এমন বিভিন্ন টানাপোড়নের মুখে ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরক্তি, হতাশা এবং মানসিক দুশ্চিন্তা কাজ করলেও প্রশাসনিক এ জটিলতায় তাদের জীবন যেন বিঘ্নিত না হয় এমনটিই প্রত্যাশা করেন শিক্ষার্থীরা।