অনলাইনে পরীক্ষা, সিদ্ধান্ত নেবে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না কমায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে এই ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় শিগগির খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ। সরকারের পক্ষ থেকে এমনটাই আভাস দিয়ে অনলাইন শিক্ষার প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে।

তারই ধারাাহিকতায় দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইনে একাডেমিক পরীক্ষা নেওয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৬ মে উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির এক সভায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জানা গেছে, অনলাইনে পরীক্ষার বিষয়ে ইউজিসি থেকে একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর মন্ত্রণালয় সেটা পরিপত্র আকারে জারি করলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনা করে ঠিক করবে, কীভাবে পরীক্ষাটি নেবে।

ইউজিসি বলছে, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর। স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে কীভাবে অনলাইনে পরীক্ষাটি নেবে, নাকি খুললে স্ব শরীরে নেবে তা নির্ধারণ করবে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দুয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিপক্ষে। মঙ্গলবার (১১ মে) ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, অনলাইনে যেখানে শতভাগ শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়নি। সেখানে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আরও ভাবতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইন পরীক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য, আমাদের এ জাতির জন্য খুব ভালো সুফল বয়ে আনবে না। আমরা এমন অবস্থায় এখনও আসিনি যে, শিক্ষার্থীদের কাছে যা প্রত্যাশা তা অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সফলভাবে নিতে পারবো বা শিক্ষার্থীরা দেখাতে পারবে।

করোনা মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক পরীক্ষা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রচলিত নিয়মে সশরীরে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

গত ৬ মে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের এক ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পরীক্ষার বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদেরকে অনলাইনে মূল্যায়ন করার বিষয়টি ইউজিসির বিবেচনাধীন রয়েছে। এ অনিশ্চিত মহামারি পরিস্থিতিতে আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভর করবে। যেহেতু এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি তাদের নিজ একাডেমিক কাউন্সিল কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবেন।

জানা গেছে, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সৃজনশীল কাজ, বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, নির্ধারিত সময় ধরে শ্রেণি পরীক্ষা (ক্লাস টেস্ট) ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া। এসব পরীক্ষা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ডিভাইসের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চালু থাকতে হবে। এভাবেই পরীক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন রকমের নির্দেশনা তৈরি করেছে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ দিতে ইউজিসির গঠিত কমিটি।