অধ্যাপক ছাড়াই চলছে সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে দক্ষ শিক্ষকের সঙ্কটে পড়ছে দেশে নতুন প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও অভিজ্ঞ শিক্ষক পাচ্ছে না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সঙ্কট কাটাতে কিছু নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অতিথি হিসেবে নিয়ে এসে কার্যক্রম চালাচ্ছে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বেসরকারি চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ও অধ্যাপক ছাড়াই চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজনও অধ্যাপক নেই। এছাড়া পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের সংখ্যা পাঁচজনের নিচে। অথচ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬৩ জন অধ্যাপক রয়েছে। বিপরীতে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবিন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একজনও অধ্যাপক নেই।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন অধ্যাপক রয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসে (বিউপি) একজন অধ্যাপক থাকলেও সেখানে ৮৯ জন খণ্ডকালীন অধ্যাপক আছেন। আর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র দু’জন। তিনজন অধ্যাপক আছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অপরদিকে পাঁচজন করে অধ্যাপক আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটিতে। এছাড়া অধিকাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগী অধ্যাপক সঙ্কটে ভুগছে। কয়েকটিতে একজনও সহযোগী অধ্যাপক নেই। এ অবস্থায় গত ডিসেম্বরে আরও চারটি প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিয়েছে মিন্ত্রসভা বিভাগ। বর্তমানে দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

এদিকে দেশে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা চারটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী অধ্যাপক ছাড়াই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছেন মাত্র একজন করে স্থায়ী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে (শিক্ষার্থী রয়েছে এমন) স্থায়ী অধ্যাপক সংকটের এ চিত্র ফুটে উঠেছে।

বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী স্থায়ী অধ্যাপক না থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভিজ্ঞ শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে অধ্যাপক কিংবা সহযোগী অধ্যাপকের মতো অভিজ্ঞ শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সরকার এবং ইউজিসি অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে সঙ্কট কাটানোর উদ্যোগ নিতে পারে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নুর বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সত্ত্বেও আমরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক পাচ্ছি না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। শুধু মাত্র কিছু প্রভাষক এবং সহকারী অধ্যাপক রয়েছে। অনেকে বিদেশে এমফিল ডিগ্রি নিতে গিয়ে আর ফিরে আসে না। এছাড়া বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় দেশের বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়ে আসা কঠিন বলেও জানান তিনি।