অক্সফোর্ডের টিকায় স্নায়বিক সমস্যা, মুখ খুললো অ্যাস্ট্রাজেনেকা

বিশ্বব্যাপী আশা জাগানিয়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল স্থগিত ও ভ্যাকসিন নেওয়ার পর একজন অসুস্থ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রথমবার মুখ খুলেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই টিকার ডোজে জটিল স্নায়বিক সমস্যা দেখা গিয়েছিল এক নারী স্বেচ্ছাসেবকের। তার শিরদাঁড়ায় মারাত্মক ব্যথা ছিল। নিউরোলজিক্যাল রোগের উপসর্গও দেখা দিয়েছিল।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

সংস্থার সিইও পাস্কাল সরিয়ট বলেছেন, টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়ার কিছুদিন পরেই স্পাইনাল ইনফ্ল্যামেশন হতে শুরু করে ওই নারীর। তীব্র প্রদাহ তৈরি হয় স্নায়ুর কোষে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে শিরদাঁড়ার দু’পাশে যন্ত্রণা হয় রোগীর। স্পাইনাল কর্ডের স্নায়ুতে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। অনেক সময় এই রোগে স্নায়ু আর বার্তা আদানপ্রদান করতে পারে না। মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠাতেও পারে না। ফলে স্পর্শের অনুভূতি চলে যাওয়া, প্যারালাইসিস, পেশীর ব্যথা, পেশীর খিঁচুনি, ব্লাডার এবং বাওয়েল সিনড্রোমও দেখা দেয় রোগীর। সেই সঙ্গে মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অ্যাস্ট্রজেনেকার মুখপাত্র ম্যাথিউ কেন্ট বলেছেন, যে নারীর রোগ ধরা পড়েছিল তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। কি কারণে ওই নারীর শরীরে এমন রোগ দেখা দিয়েছিল তার পরীক্ষা চলছে। তৃতীয় পর্যায়ে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে একজনেরই কেন এমন রোগ দেখা দিল সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাতে পারেনি অ্যাস্ট্রজেনেকা।

প্রসঙ্গত, অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিল থেকেই। প্রথম দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাদের মধ্যে একজন নারী বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। তারপর প্রথম পর্যায়ে কম সংখ্যক মানুষের শরীরে টিকার পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাজারের বেশি জনকে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছিল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ট্রায়ালের মাঝে এক স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর সামনে আসায় ট্রায়াল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

বিবৃতিতে জানানো হয়, সুরক্ষার জন্যই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সমস্যা খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।