অক্টোবরকে টার্গেট ধরে স্বাস্থ্যবিধি প্রস্তুত করছে ঢাবি

স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা পরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যদিও সরকারি নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে হল ও ক্যাম্পাস খোলার সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা গণরুম। সেটা নির্মূলের চেষ্টা চলছে এবং হল খোলার আগেই তা বাস্তবায়ন হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রভোস্ট কমিটির বৈঠক হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা গেছে, হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার একটি গাইডলাইন তৈরি করবে প্রভোস্ট কমিটি। পরিবেশ সন্তোষজনক হলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে খুলে দেওয়া হবে হল। এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখেই আবাসিক হলগুলো প্রস্তুত করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পাস কবে নাগাদ খুলবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আবাসিক হলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। সেটি যদি সম্ভব হয় তাহলে আগে হলগুলো খুলে দেওয়া হবে।এই পরিস্থিতিতে আবাসিক হলগুলোর পরিবেশ ফেরাতে বিদ্যমান গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ এবং যেসব শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়েছে তাদের উচ্ছেদ করা হবে। একইসঙ্গে ক্যাম্পাস খোলার আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে হল ছাড়তে বলেছে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি। এছাড়া কথিত গণরুমের শিক্ষার্থীদের কীভাবে হলে সংকুলান করানো যায়, সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পুরো এই প্রক্রিয়া চলতি মাসেই মধ্যেই শেষ করতে চায় প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে গত ২৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদভুক্ত ১৩টি ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে আবাসিক হল খোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রমের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়। হল খুলে দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইন ক্লাসে বৈষম্য কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয় ওই বৈঠকে।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘করোনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। মানবসৃষ্ট হলে ক্যাম্পাস ও হল কবে খুলবে- সেটা বলা যেত। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। কোনো হলে গণরুম কিংবা অছাত্র থাকতে পারবে না। করোনাকালে হল খুললে যে ঝুঁকি, তার অগ্রগতি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সাপেক্ষে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। হলগুলোয় ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী থাকে। তাঁদের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই হল খোলা হবে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, যখন হল খোলা হবে, তখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজ্ঞানসম্মত উপায়েই খোলা হবে। আমরা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে আবাসিক হলগুলো খোলা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি।

করোনার সংক্রমণের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। করোনা পরিস্থিতিতে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা ও শিক্ষার্থীরা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে। দেশে করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। লক্ষণও আশাব্যঞ্জক নয়।